আল্লাহর পরিচয় সংজ্ঞা ক্ষমতা সম্পর্কে

আল্লাহর পরিচয় সংজ্ঞা ক্ষমতা সম্পর্কে

  • প্রিয় পাঠক, স্বাগত জানাচ্ছি আপনাকে,আজকে আমরা জানবো কে আমাদের সৃষ্টিকর্তা? আমি তো নিজেকে নিজে তৈরি করি নাই. কে আমাকে সৃষ্টি করল? কে আসমান জমিন চন্দ্র-সূর্য সৃষ্টি করলো? সে সম্পর্কে.
  • মুসলিমরা বলে আল্লাহ.তাই আমরা জানবো আল্লাহর সংজ্ঞা, আল্লাহর পরিচয়, আল্লাহর ক্ষমতা এবং আল্লাহর ৯৯ টি গুণবাচক নাম.

1 .বলুন,স্রষ্টা এক এবং অদ্বিতীয়.

2. স্রষ্টা কারো মুখাপেক্ষী নয়.

3. তিনি কাউকে জন্ম দেন নাই এবং তাকেও কেউ জন্ম দেন নাই. 

এই চারটি বাক্য যার সাথে মিলবে, সে হলো সৃষ্টিকর্তা.

আল্লাহর পরিচয়

  • মক্কার কাফের, মুশরিকরা যখন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে আল্লাহর পরিচয় জানতে চাইলো, তখন আল্লাহ এই সূরাটি অবতীর্ণ করেন.
  • আল কোরআনের এই সূরার নাম “সূরা ইখলাছ” সূরা নং ১১২অর্থাৎ উপরের এই ৪টি  বাক্য বলার জন্য নির্দেশ দেন, এতে আল্লাহতালার পরিচয় তুলে ধরেন.
  • আল্লাহতালার আসন আসমান ও জমিনে পরিব্যপ্ত. তিনি অতি উচ্চ, বিরাট এবং প্রশংসিত.

   সূরা ইখলাস

   বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহিম

  • কুল  হুওয়াল্ লা-হু আহা্দ
  •  আল্লা-হুছ ছা্মাদ
  •  লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ
  •  ওয়ালাম ইয়াকুল লাহূ  কুফুওয়ান আহা্দ.

                                                                                                                                                                                                                                     সূরা ইখলাছের গাণিতিক বিশ্লেষণ

  •  ইয়ালিদ এ শব্দের মাঝে লাম এর নিচে একটি যের (আরবি হরফ) রয়েছে,এর পূর্বেও ২৩ অক্ষর, পরেও ২৩অক্ষর.
  • ইয়ালিদ এ শব্দের পূর্বেও ৭টি শব্দ, পরেও ৭টি শব্দ.
  • এই সূরায় ইয়ালিদ শব্দের অর্থ হচ্ছে জন্ম, এ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন,তিনি কাউকে জন্ম দেন নাই এবং তাকেও কেউ জন্ম দেন নাই.
  • আমরা জানি মানুষ জন্মিতে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোন.অর্থাৎ পুরুষ থেকে ২৩, নারী থেকে ২৩ মোট ৪৬ টা ক্রোমোজোম প্রয়োজন.
  •  ইয়ালিদ শব্দ দিয়া এই সুরাকে দুই ভাগ করেছেন,এবং বুঝিয়েছেন তিনি মানুষ জন্ম দেওয়া এবং নেওয়া থেকে পবিত্র.মানুষ তো আল্লাহর সৃষ্টি.

মানুষ জন্মিতে ৭টা স্তর প্রয়োজন

  •  যেমন-মাটির উপাদান থেকে—শুক্রবিন্দু—জমাট বাঁধারক্ত—মাংসপিণ্ডে—অস্থি পিঞ্জরে—গোস্ত দ্বারা ঢেকে দেয়, তারপর তাকে গড়ে তুলি স্বতন্ত্র সৃষ্টি(মানুষ). মহান আল্লাহ যিনি উত্তম স্রষ্টা.
  • বিদ্রোহী মাটির উপাদান বলতে বোঝায়, আমরা মাটি থেকে উৎপাদিত ফসল এবং ফল ভোগ করি এবং তাতে শরীরের রক্ত হয়, রক্ত থেকে শুক্রবিন্দু তৈরি হয়.
  • আমাদের শরীরের রক্তে,হাড়ে এবং মাংসের যে সকল উপাদান পাওয়া যায়, মাটিতেও ওই ধরনের উপাদান আছে.

৪ সংখ্যাটির গুরুত্ব

  • আল্লাহর নামটি লিখতে অক্ষর প্রয়োজন ৪টি
  • সূরা এখলাসের আয়াত সংখ্যা ৪টি 
  • প্রধান আসমানী কিতাবের সংখ্যা ৪টি
  • প্রধান আসমানী কিতাবের নাম কোরআন, লিখতে অক্ষর প্রয়োজন ৪টি
  • প্রধান ফেরেশতার সংখ্যা ৪ জন
  • প্রধান খলিফার সংখ্যা ৪ জন.
  • সূরা নং ১১২= ১+১+২=৪
  • নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ এক. (সূরা নং ৩৭ ছোয়া-ফ ফাত আয়াত নং ৪)

সৃষ্টিকর্তার কি নাই

  • সৃষ্টিকর্তার কোন অভাব নাই.
  • সৃষ্টিকর্তার কোন মৃত্যু নাই
  • সৃষ্টিকর্তার খাদ্যের প্রয়োজন হয় না.
  • আকাশ মন্ডল এই পৃথিবীর রক্ষনার্থে আল্লাহতালা ক্লান্তি হয় না.
  • সৃষ্টিকর্তার কোন সন্তান নেই
  • অভিভাবক থাকতে পারে এই ধরনের কোন দুর্বলতা নেই.

“সূরা ইখলাছ”এর ফজিলত

  • সূরা ইখলাস একবার পড়লে ১০ পারা পড়ার সওয়াব, তিনবার পড়লে এক খতম কুরআন পড়ার সওয়াব.
  • দশবার পড়লে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়.

১ লক্ষ ৪০ হাজার ফেরেশতা নিয়ে জানাজা পড়ার ঘটনা

  • একদা মক্কায় এক সাহাবী ইন্তেকাল করেন,তখন আল্লাহতাআলা জিব্রাইলের মাধ্যমে নবীজির কাছে বার্তা প্রেরণ করেন যে, ওই সাহাবীর জানাযা পড়ানোর জন্য,
  • তখন জিব্রাইল আলাই সাল্লাম সহ এক লক্ষ ৪০ হাজার ফেরেশতা নিয়ে নবীজি ওই সাহাবীর জানাজা পড়ালেন,এবং জিব্রাইল আলাই সাল্লাম কে প্রশ্ন করলেন,
  • অন্য কোন সাহাবীর মৃত্যুর সময় তো ফেরেশতা আসে না, কিন্তু এই সাহাবীর জানাজায় কেন এত ফেরেশতা আসলো? তখন জিব্রাইল আলাই সালাম বলল,
  •  এই সাহাবী সূরা ইখলাস কে খুব ভালোবাসতো এবং উঠতে বসতে সব সময় এই সূরা পাঠ করত. তাই আল্লাহতালা খুশি হয়ে তার জানাজায় ফেরেস্তা পাঠালেন.

আল্লাহর নূরের উপমা 

  • আল্লাহ আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীর নূর, তার নূরের উপমা এমন তাক, যার মধ্যে আছে এমন একটি প্রদীপ,প্রদিপটি কাঁচের ফানুসের মধ্যে রয়েছে, যেন কাঁচের ফানুসটি উজ্জ্বল নক্ষত্রসম;
  •  আর প্রদীপটি এমন পবিত্র বৃক্ষ দ্বারা প্রজ্জ্বলিত করা হয়,যা না পূর্ব-মুখি, আর না পশ্চিমমুখী. আগুন তা স্পর্শ না করলেও তার তেলই প্রদীপ্ত মনে হয়. নূরের ওপর নূর.
  •  আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে নুরের পথ দেখান, আর আল্লাহ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন, আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে অবগত.২৪ নং সূরা নূর আয়াত 35 আল কুরআন.

বিদ্রোহী:-

  • এই আয়াতে আল্লাহ বুঝাইতেছেন যে, আল্লাহ আকাশ মন্ডল ও পৃথিবীর নূর,নূরটা এমন একটা তাক যার মধ্যে একটি প্রদীপ রয়েছে, আর প্রদীপটি একটি কাঁচের পাত্রের মধ্যে স্থগিত, কাঁচের পাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত, এই প্রদীপটি পূর্বমুখীও না, পশ্চিমমুখীও না,এবং পবিত্র জয়তুন বৃক্ষের তৈল হতে এটা প্রজ্জ্বলিত হয়
  •  আগুন স্পর্শ না করলেও এর  তৈল যেন উজ্জ্বল আলো দিচ্ছে.অর্থাৎ আলোর উপর আলো.আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে এই নুরের বা আলোর পথ দেখান. 

আল্লাহর ৯৯ টি গুণবাচক নাম রয়েছে

  • আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত,যে ব্যক্তি আল্লাহর ৯৯ টি গুণবাচক নাম অন্তরের মধ্যে মুখস্ত করে রাখবে, সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে.
  • এই ক্ষুদ্র জীবনের জন্য আমরা কত বই-পুস্তকের পড়া মুখস্ত করেছি,আর পরকালের বিশাল রাজ্যে এবং অনন্তকাল জীবনের জন্য এই ৯৯ টি নাম মুখস্ত করা কি অসম্ভব? 

মুখস্ত করার সহজ পদ্ধতি

মুখস্ত করার সহজ পদ্ধতি হয়েছে প্রতিদিন একটি লাইন পাঁচবার করে পড়বেন.এক সপ্তাহ পরে আপনার মুখ থেকে বের হয়ে সহজ হয়ে যাবে.

তারপর দ্বিতীয় লাইন প্রতিদিন পাঁচবার. দ্বিতীয় লাইন পড়ার পূর্বে প্রথম লাইন একবার রিপিট করে নিবেন.

এইভাবে প্রতিদিন যদি এক মিনিট করে পড়েন, খুব দ্রুত মুখস্ত হয়ে যাবে. ইনশাআল্লাহ.

  • হুয়াল্লা হুল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়া  ‘আল্লাহু’
  • আর রাহমা-নুর  রাহিমুল  মালিকুল  কুদ্দুসস  সালা-ম
  • আল মু’মিনুল মুহাইমিনুল  আ’জিজুল  জব্বারুল  মুতাকাব্বিইর
  • আল খালিকুল বারিউল মুসাউইরুল  গাফফারুল  কাহহারুল   ওয়াহহা-ব

আর রাজ্জা-কুল  ফাতা-হুল  আলি-মুল   ক্ব-বিদুল  বা-সিত

  • আল খফিদূর  রফিউল  মুই’জ্জুল  মুদ্বি’ল্লুস  সামি’উ 
  • আল বাছী-রুল  হা’কামুল  আ’দলুল  লাতি-ফুল  খ’বিইর
  • আল হা’লিমুল  আজিমুল  গ’ফুরুস  শাকুরুল  আ’লিউল  কাবিইর
  • আল হা’ফিজুল  মুক্বীতুল  হাসিবুল  জালিলুল   কারিম

  • আর  রক্বীবুল  মুজিবুল  ওয়া’সিউল  হাকিম
  • আল ওয়াদুদুল মাজিদুল  বা’ইসুশ  শাহিদুল  হা’ক্কু 
  • আল ওয়াকিলুল  ক্বওইউল  মাতিনুল  ওয়ালিউল   হা’মিদ
  • আল মু’হছিল  মুব্দিউল  মু’ঈদুল  মুহ’য়ীইল  মুমীত
  • আল হাইয়্যুল  ক্বইয়্যুমুল  ওয়াজিদুল  মাজিদুল  ওয়াহি’দ 

  • আছ ছামাদুল   ক্ব-দিরুল   মুক্বতাদিরু
  • আল মুক্বদ্দিমুল  মুয়াখখিরুল   আউয়ালুল   আ-খিরুজ   জ’-হির 
  • আল বা-ত্বিনুল   ওয়ালিল   মুতাআ’লিল   বারুত  তাওয়া-ব 
  • আল মুনতাক্বিমূল  আ’ফুউর  র’উফু   মা-লিকুল মুলকি  জুলজালালি ওয়াল ইকরাম

  • আর রব্বুল  মুক্বসিতু্‌ল   জা-মি’উল   গ’নিয়্যুল   মুগ’নিই
  • আল মা’নিউদ  দ্দ- ররুন  না-ফি’উন   নুরুল  হাদি
  • আল বাদি’উল  বা-কিল   ওয়া-রিসুর   রশি-দূস   সবূ-র

 

বিদ্রোহী  অনেক অক্ষরের পর (-) এই চিহ্নি দেওয়া আছে, এর অর্থ হল আরবি ভাষা উচ্চারণের সময় ওই অক্ষরের একটু লম্বা সময় নিয়ে পড়তে হবে.

আল্লাহর নামের বিশেষ অর্থ

  • আর রাহমান এর অর্থ হচ্ছে দয়ালু,অর্থাৎ বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী এবং সকল সৃষ্টির জন্য ব্যাপক ভাবে দয়া করেন দুনিয়াতে,এবং রিজিক দিয়ে থাকেন.
  • আর রাহিম এর অর্থ হলো দয়ালু অর্থাৎ দুনিয়াতে ও পরকালে বিশ্বাসীদের জন্য বিশেষ ভাবে দয়া করবেন.
  • আল খালিক এর অর্থ তিনি সৃষ্টি কর্তা.
  • আল মালিক এর অর্থ তিনি মালিক
  • আর রাজ্জাক এর অর্থ তিনি রিজিক দাতা
  • আল গাফফার এর অর্থ তিনি মহা ক্ষমাশীল.এইভাবে প্রত্যেক নামের বিশেষ অর্থ রয়েছে.নিম্নে ভিডিওতে বিস্তারিত পাবেন.

আল্লাহর সুন্দর নামে ডাকতে বলেছেন

  • আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে ওই নামে ডাকতে.আল্লাহর ৯৯ টি গুণবাচক নাম রয়েছে.
  • বলুন, তোমরা তাকে আল্লাহ বলেই ডাক  বা ‘রহমান’ বলেই ডাক; যে নামেই ডাক সুন্দর নাম তো একমাত্র তারই.১৭ নং সূরা বনী ইসরাইল ১১০
  • যখন নবীজি (সাঃ) বললেন, তোমরা রহমানকে সেজদা কর, তখন তারা কি বলল? তখনই এই আয়াতটি নাযিল হয়.
  • যখন তাদের বলা হয়, রহমানকে সিজদা কর. তখন তারা বলে, রহমান আবার কে? তুমি নির্দেশ দিলেই কি আমরা সিজদা করব? এতে তাদের বিমুখতা আরো বৃদ্ধি পায়.(২৫ নং সূরা ফুরকান ৬০)

আল্লাহর নাম বিকৃতির প্রতিফল কি?

  • যারা আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নামকে বিকৃতি করবে বা বর্জন করবে, তাদেরকে অবশ্যই প্রতিফল দিবেন. এ বিষয়ে একটি আয়াত রয়েছে.
  • আল্লাহর কত সুন্দর সুন্দর নাম আছে; তোমরা ওইসব নামেই তাকে ডাকবে. আর যারা তার নাম সমূহ বিকৃতি করে বর্জন করে চলবে, শীঘ্রই তাদেরকে দেওয়া হবে তাদের কৃত কর্মের প্রতিফল.৭নং সুরা আরাফ ১৮০

আল্লাহর মহিমা লিখে শেষ করা যাবে না

  • আপনি বলুন, রবের কথা লিপিবদ্ধ করার জন্য যদি সমুদ্র কালী হয়, তবে নিঃসন্দেহে আমার রবের কথা শেষ হবার পূর্বেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে. যদিও অনুরূপ আর একটি সমুদ্র সাহায্যের জন্য আনায়ন করি.১৮ নং সূরা কাহাফ ১০৯
  • আর ভূপৃষ্ঠের বৃক্ষসমূহ যদি কলম হয়ে সমুদ্রের সঙ্গে আরো সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালিতে পরিণত হয়, তবুও আল্লাহর বাণী লিখে শেষ হবে না, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী,  বিজ্ঞ. ৩১ নং সূরা লোকমান ২৭

107.আল্লাহর ক্ষমতা

আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কে কোরআনে একটি আয়াত রয়েছে,”ওয়াল্লাহু আলা কুল্লি শাইয়্যুিন কাদির” (২ নং সুরা বাকারা ২৮৪)এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর সকল বিষয়ের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান.

নিম্নে কয়েকটি ক্ষমতার উদাহরণ দেওয়া হইল

‘হও’ বললেই হয়ে যায়

  • আল্লাহ আসমান ও জমিনের স্রষ্টা এবং যখন তিনি কিছু করতে সিদ্ধান্ত নেন , শুধু বলেন , হও! তা হয়ে যায়.২নং সূরা বাকারা ১১৭
  • তার বিষয় হল, যখন তিনি কোন বস্তু সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করেন,’ হও’ বলেন, আর ওমনি তা হয়ে যায়.৩৬ নং সূরা ইয়াসিন ৮২

আসমান-জমিন নিয়ন্ত্রণ এবং জীবন-মৃত্যুর ক্ষমতা

  • বলুন, কে তোমাদেরকে আসমান ও জমিন নিয়ন্ত্রণাধীন হতে রিজিক প্রদান করে?
  •  শ্রমশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কার অধীনে? কে বের করেন জীবিতকে মৃত হতে এবং মৃতকে জীবিত হতে,
  •  কেই বা সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন? তখন তারা অবশ্যই বলবে,আল্লাহ, বলুন, তবু কি তোমরা সাবধান হবে না? ১০ নং সূরা ইউনুস ৩১
  • জীবিত কে মৃত হতে এর অর্থ হচ্ছে, আমরা যখন মায়ের গর্ভে সৃষ্টি হই তখন কিছুই ছিলাম না, অর্থাৎ মৃত ছিলাম. আল্লাহ পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি করেন এবং প্রাণ দেন.
  • আর মৃত কে জীবিত হতে এর অর্থ হল, আমরা জীবিত হওয়ার পর মৃত্যু হয়.
  • আমি জীবন দান করি এবং মৃত্যু প্রদান করি এবং আমি তার চূড়ান্ত মালিক. 
  • আর আমি তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে জানি এবং তোমাদের পরবর্তীদেরকেও জানি.১৫ নং সূরা হিজর ২৩/২৪

এমন কোন দুর্বলতা নেই

  • বলুন, সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর, যিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেন নি.সার্বভৌমত্বের তার কোন শরিক নেই?
  •  তার কোন দুর্বলতা নেই? যার কারণে তার কোন অভিভাবক থাকতে পারে. আর তারই মহত্ব ঘোষণা কর.১৭ নং সূরা বনী ইসরাইল ১১১
  • আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেন নি, তার সার্বভৌমত্বের কোন অংশীদারও নেই. তার এমন কোন দুর্বলতা নেই যে তার অভিভাবক থাকতে পারে. এটা আল্লাহর বড় ক্ষমতা.

হাত,পা,চোখে কথা বলার ক্ষমতা দেওয়া

  • আর আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দেব, এদের হাত আমার সাথে কথা বলবে, এদের পা এদের কৃত কর্মের সাক্ষ্য দিবে
  • আর আমি ইচ্ছা করলে এদের চোখ নষ্ট করে দিতে পারি, পথ চলতে চাইলে তারা কিভাবে দেখবে ?
  • আর আমি ইচ্ছা করলে স্ব-স্ব স্থানে বিকৃত করতে পারতাম, চলতে পারতো না, প্রত্যাবর্তন করতেও পারত না.
  • যাকে আমি দীর্ঘ জীবন দিই তার আকৃতি কজো (পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে আনা) করি, তবুও কি তারা বুঝবে না? ৩৬ নং সূরা ইয়াসিন ৬৫-৬৮

257.পালাবার জায়গা কোথায়ও নাই,তিনি ধরবেই 

  • আমাদের পালাবার কোথায়ও স্থান নাই, আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে আমরা সবাই বাধ্য. আর যদি লোহার সিন্দুকের ভিতরেও পালাও,তবুও মৃত্যু তোমাকে-আমাকে ধরবেই এবং আল্লাহর কাছে ফিরতে বাধ্য,আর এটা আল্লাহর এক ক্ষমতা.
  • বিষয়টা এমন নয় যে, মৃত্যু হলে আপনি মরে গলে পঁছে  ছাই হয়ে যাবেন.এবং একেবারে নিঃশেষ হয়ে যাবেন.
  • আমাদের শরীরের যে দেহ বা খোলস রয়েছে, তা পৃথিবীর মাটি থেকে সৃষ্টি এবং মাটিতে মরে গলে পঁছে ছাই হয়ে যাবেন.কিন্তু রুহ বা আত্মা নিঃশেষ হয় না. খোলস পরিবর্তন করবে. বা রুপ পরিবর্তন করবে.
  •  বিষয়টা এমন যে, আমরা যখন কোন ফলে বীজের বাহিরের অংশ খাওয়ার পর বীজ টা মাটিতে পুঁতে রাখলে গাছ হয়, আবার ফল হয়. ঠিক এই রকম.
  • ফলের বীজ টা যেমন নিঃশেষ হয় না, এই বীজ থেকে আবার গাছ হয়, ফল হয় ঠিক তেমনি আমাদের রুহু বা আত্মা নিঃশেষ হয় না. কোথায় থাকে সে বিষয়টি মৃত্যুর ও কবর বিভাগে লিখা আছে
  • ফলের বীজের মতো কিভাবে রুহু বা আত্মা থেকে পুনরায় জীবিত হবেন, সেই বিষয়টি পুনরুত্থান বা পূর্ণজীবিত বিভাগের লিখা আছে.

আল্লাহর কাছে ফিরতে আমরা বাধ্য

  • আর তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছে,তারই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে.২৩ নং সূরা মুমিনুন আয়াত নং ৭৯ 
  • তিমিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন, এবং তার নিকটই তোমাদের প্রত্যাবর্তন স্থল.১০ নং সূরা ইউনুস ৫৬ 
  • আমি কত জনপদ কে অবকাশ দিয়েছি, যার অধিবাসীরা ছিল জালিম তারপর পাকড়াও করেছি, আমার কাছেই ফিরবে.২২ নং সূরা হজ্জ ৪৮ 
  • এটা পার্থিব সম্পদ মাত্র, তারা আমার কাছেই আসবে.তখন আমি তাদের অবিশ্বাসের কারণে কঠোর শাস্তি দিব.১০ নং সূরা ইউনুস ৭০

260.আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া ঈমান আনা না কারো পক্ষে সম্ভব নয়

যারা ঈমান আনবে না

  • নিশ্চয়ই যাদের ব্যাপারে রবের বাক্য সাব্যস্ত তারা ঈমান আনবে না.১০ নং সূরা ইউনুস 98
  • আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া ঈমান আনা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়. তিনি তাদের উপর অপবিত্রতা স্থাপন করেন যারা নির্বোধ.১০ নং সূরা ইউনুস ১০০ 

পথপ্রাপ্তদেরকে আল্লাহ চিনেন

  • আপনি আপনার প্রিয় কে পথ দেখাতে পারবেন না, বরং আল্লাহ ইচ্ছা মত পথ দেখান, এবং তিনিই পথ প্রাপ্তদেরকে চেনেন.২৮ নং সুরা কাছোয়াছ ৫৬
  • আপনার রবের ইচ্ছা করলে জমিনের সবাই ঈমান আনত, তবে কি আপনি মানুষকে মুমিন হওয়ার জন্য জবরদস্তি করবেন.১০ নং সূরা ইউনুস ৯৯
  • আপনি বলুন, আকাশ ও জমিনে যা আছে তা দেখ, আর নিদর্শন ও ভীতি প্রদর্শন যারা ঈমান আনেনা তাদের কোন উপকার আসে না.১০ নং সূরা ইউনুস ১০১
  • অথচ জালিমরা না জেনে ও কুপ্রবৃত্তির দাসত্ব করে; আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, কে তাকে হেদায়েত প্রদান করবে? তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই.৩০নং সূরা রুম ২৯ 

303.যারা আল্লাহর সম্বন্ধে বিতর্ক করে, তাদের ফলাফল কি

বিতর্কের বিষয় গুলো 

  • তোমরা কি দেখো না, আল্লাহ সবকিছুকে তোমাদের মঙ্গলে নিয়োগ করেছেন, যা কিছু আছে জমিনে এবং তিনি পূর্ণ করে দিলেন তোমাদের প্রতি তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অনুগ্রহ;
  •  মানুষের মাঝে কতক এমন আছে যারা আল্লাহ সম্বন্ধে বিতর্ক করে  না জেনে, না পথ পেয়ে, না স্পষ্ট গ্রন্থ পেয়ে.৩১ নং সূরা লোকমান ২০ 
  • আর কিছু মানুষ এমনও আছে যারা আল্লাহ সম্বন্ধে বিতর্ক করে, না জেনে, বিনা প্রমানে ও বিনা উজ্জ্বল গ্রন্থে.
  • গর্ব ভরে গর্দান বাকিয়ে  বিতর্কে লিপ্ত, যেন আল্লাহর পথ হতে লোকদের ভ্রষ্ট করতে পারে.দুনিয়াতেই তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা, পরকালে তাকে আগুনের শাস্তি আস্বাদন করাব.২২ নং সূরা হজ্জ আয়াত ৮ থেকে ৯

কোনটি সঠিক পথ

  • প্রত্যেক দলের জন্য আমি ইবাদত পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি, সেইভাবে তারা পালন করে, এই ব্যাপারে যেন আপনার সঙ্গে তর্ক না করে; আপনার রবের প্রতি ডাকুন, নিঃসন্দেহে আপনি সু-পথেই আছেন.
  • এই সত্বেও তারা তর্ক করলে বলুন, আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে জানেন.আল্লাহ পরকালে সে বিষয় মীমাংসা করে দিবেন, যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছ.
  • আপনি কি জানেন না যে, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার সবই আল্লাহ তাআলা অবগত আছেন, নিঃসন্দেহে সবকিছু এই গ্রন্থে আছে, আর এই কাজ আল্লাহর জন্য খুবই সহজ.২২ নং সূরা হজ্জ ৬৭ থেকে ৭০

আল্লাহর সম্পর্কে বিতর্কের ফলাফল বা শাস্তি 

  • বিবাদমান এ দুটি দল তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়; যারা কাফের তাদের জন্য আগুনের পোশাক প্রস্তুত করা হয়েছে, তাদের মাথার উপর উত্তপ্ত পানি ঢালা হবে
  • যা দ্বারা পেটের বস্তু ও চামড়া বিগলিত হবে.আর তাদের জন্য রয়েছে লোহার গুর্জ.
  • যখনই কাতর হয়ে তা হতে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে ওতে( জাহান্নামে) ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং বলা হবে দহন যন্ত্রণা আস্বাদন কর.২২ নং সূরা হজ্জ আয়াত ১৯ থেকে ২২

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *