প্রিয় পাঠক স্বাগত জানাচ্ছি আপনাকে,আমার এই পোস্টে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য যে বিষয় ও ঘটনা গুলো আমি উপস্থাপন করব তা হল:
সূচিপত্র
- শ্রেষ্ঠ এবং প্রধান সম্পর্কিত বিষয়ে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রকাশ
- আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ (উপাস্য) নাই,
- যদি থাকতো তাহলে কি ঘটতো,
- আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য কিছু বিষয়,
- আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য কয়েকটি ঘটনা উপস্থাপন করব
- এবং আল্লাহকে কেন দেখতে পাই না?
- তাহলে আমাদের সৃষ্টিকর্তা কোথায়?
শ্রেষ্ঠ এবং প্রধান সম্পর্কিত বিষয়ে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রকাশ
- সকল প্রাণীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাণী, মানুষ
- মানুষের দেহের প্রধান, তার মাথা
- সকল নবীদের শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম
- ফেরেশতাদের মধ্যে প্রধান ফেরেশতা জিব্রাইল আলাই সালাম
- সকল কিতাবের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কিতাব আল কোরআন

- শ্রেষ্ঠ মাস রমজান মাস
- সাপ্তাহে শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবার
- শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর রাত
- শ্রেষ্ঠ দিন আরাফাতের দিন
- থানার প্রধান টিএনও
- জেলার প্রধান ডি.সি
- দেশের প্রধান প্রধানমন্ত্রী
- সাগরের প্রদান প্রশান্ত সাগর

- সকল কম্পিউটারের প্রধান সার্ভার
- শয়তানের প্রদান ইবলিশ
- ফলের রাজা আম
- মাছের রাজা ইলিশ
- পাখির রাজা ঈগল
- পশুর রাজা সিংহ,ইত্যাদি.

- আমরা যদি অন্তরে চোখ দিয়ে দেখি,যদি সবকিছুর প্রদান থাকে,তাহলে পৃথিবী, চন্দ্র -সূর্য গ্রহ -নক্ষত্র,সমুদ্র সাগর ও আকাশ মণ্ডলের কে মালিক, কে প্রধান
- উত্তর হল,যে এগুলা সৃষ্টি করেছেন,তিনিই সৃষ্টিকর্তা.তিনিই মালিক, তিনিই সবার উপরে, তার উপরে কেউ নাই,মুসলিমরা বলে আল্লাহ.
- এই ধরনের বিধানসমূহ তৈরি করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর আছে, এতে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রকাশিত হয়.

তাছাড়া 1,2,3,4,5,6,7,8,9,10 এইভাবে চলতে থাকবে.1 এর পূর্বে কিছু আছে?.যেহেতু 1 এর পূর্বে কিছু নাই, তাই স্রষ্টার উপরে কেহ নাই..কারণ স্রষ্টা এক এবং অদ্বিতীয়.
(সূরা বনী ইসরাইল,আয়াত নং ৪৪) সপ্ত আকাশ, জমিন ও তাদের মধ্যেকার সকল বস্তু তারই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, আর এমন কিছু নেই যা তার প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করেনা, তবে তোমরা সে বর্ণনা বুঝনা. নিশ্চয়ই তিনি সহনশীল ও ক্ষমাপরায়ণ.
নিঃসন্দেহে আল্লাহ ছাড়া যে কোন ইলাহ (উপাস্য) নাই
আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন কি ইলাহ আছে কি?
আল্লাহ মানুষকে প্রশ্ন করেছেন এবং উত্তরও দিচ্ছেন,
প্রশ্ন নং 01
| প্রশ্ন | উত্তর |
| আল্লাহ আকাশ মন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশমণ্ডল হতে বৃষ্টি বর্ষণ করে মনোরম উদ্যান সৃষ্টি করলেন.গাছ উৎপাদনের শক্তি তো তোমাদের নেই. তাহলে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ আছে কি? | বরং তারা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে.(২৭ নং সূরা নামল আয়াত ৬0) |

প্রশ্ন নং02
| প্রশ্ন | উত্তর |
| আল্লাহ এই পৃথিবীকে বাসস্থান করলেন, মাঝে মাঝে নদী দিলেন, রাখলেন পর্বতমালা, দুই নদীর মাঝে রাখলেন অন্তরায়. আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোন ইলাহা আছে কি? | বরং তারা অনেকে জানে না (২৭ নং সূরা নামল আয়াত 61) (এই সৃষ্টির মধ্যে স্রষ্টার অস্তিত্ব বিরাজমান,ও সকল বিষয়ের উপর আল্লাহ পূর্ণ ক্ষমতাবান) |
প্রশ্ন নং 03

| প্রশ্ন | উত্তর |
| না কি যিনি আতের (অন্তরের) ডাকে সাড়া দেন, বিপদমুক্ত করেন, তোমাদেরকে তিনি এই দুনিয়ার প্রতিনিধি করেন, আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন কি ইলাহ আছে? | তোমরা খুব কমই উপদেশ নিয়ে থাক.(২৭ নং সূরা নামল আয়াত ৬২) |
প্রশ্ন নং 04
| প্রশ্ন | উত্তর |
| আল্লাহর স্থল ও পানির অন্ধকারে পথ দেখান,এবং সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন, আল্লাহর সঙ্গে কি তাদের অন্য কোন ইলাহা আছে? | আল্লাহর শিরকের বহু ঊর্ধ্বে (২৭ নং সূরা নামল আয়াত 63 |

প্রশ্ন নং 05
| প্রশ্ন | উত্তর |
| না কি আল্লাহ প্রথমবার সৃষ্টি করলেন এবং তিনি পুনরাবৃত্তি করবেন এবং তিনি আকাশ থেকে পৃথিবীতে আমাদেরকে রিজিক দেন, আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোন ইলাহ আছে? | বলুন, তোমরা প্রমাণ নিয়ে আস,যদি তোমরা সত্যবাদী হও (আল্লাহর শিরকের বহু ঊর্ধ্বে (২৭ নং সূরা নামল আয়াত 64) |

- উপরের আয়াতে আল্লাহ বলেছেন যে
- তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন পুনরায়ু সৃষ্টি করবেন.
- তার সৃষ্টির প্রক্রিয়া হল প্রথমে দুর্বল অবস্থা সৃষ্টি করেন
- তারপরে শক্তি প্রদান করেন
- আবার দুর্বল এবং বার্ধক্য করেন
- তারপর মৃত্যু দিবেন এবং পরে পুনর্জীবিত করবেন.
- প্রশ্ন নং 06
| প্রশ্ন | উত্তর |
| আল্লাহ আমাদেরকে দুর্বল অবস্থা সৃষ্টি করেন, পরে শক্তি প্রদান করে, পরে আবার প্রদান করেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য.আল্লাহর এইভাবে নিজের ইচ্ছামত সৃষ্টি করেন. | আল্লাহ মহাজ্ঞানী, শক্তিধর.(30 নং সূরা রুম 54) |
উপরের বিষয়গুলোর ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই, নিঃসন্দেহে বলা যায় আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই.এবং আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণিত.

আল্লাহর সঙ্গে যদি অন্য কোন ইলাহ থাকতো তবে কি ঘটত
আরশের মালিকের পথ খুঁজে নিত
বলুন, তাদের কথামতো যদি তার সঙ্গে আরও ইলাহা থাকতো, তারা আরশের মালিকের পথ খুঁজে নিত. (১৭ নং সূরা বনীইসরাঈল আয়াত42)
উভয়ে ধ্বংস হত
তিনি বলেছেন,যদি আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া বহু ইলাহ থাকতো, তবে উভয়ে ধ্বংস হত, তাদের বক্তব্য হতে আরশের রব পবিত্র(21নং সূরা আম্বিয়া 22)

প্রত্যেকেই পৃথক হয়ে যেত
- আল্লাহ কোন সন্তান নেন নি. তার সঙ্গে কোন ইলাহ নেই.যদি থাকতো, তবে প্রত্যেকেই সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত, একে অন্যের উপর প্রাধান্য নিত,তাদের বক্তব্য হতে আল্লাহ পবিত্র. 23 নংসূরা মুমিনুন 91
- নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ এক.(৩৭ নংসূরা ছোয়া-ফ ফাত আয়াত ৪)
এক অবিশ্বাসী লোকের দুইটি প্রশ্ন
প্রশ্ন নং 01 আল্লাহর অস্তিত্ব নাই
- অবিশ্বাসী লোক এক বিশ্বাসী ব্যক্তিকে প্রশ্ন করে, সে আল্লাহকে দেখেনা এ জন্য সে বিশ্বাস করবে না. কারণ যেটা দেখা যায় না সেটার অস্তিত্ব নাই. যদি কেউ আল্লাহর অস্তিত্ব দেখাইতে পারে, তাহলে সে বিশ্বাস করব.
- প্রশ্ন নং২:-আল্লাহ শয়তানকে জাহান্নামে ফেলবে, কিন্তু প্রশ্ন হল শয়তান তো আগুনে তৈরি, আগুনে ফেললে শয়তান আরো শক্তিশালী হবে. এতে শাস্তি হবে কিভাবে?
প্রথম প্রশ্নের উত্তর
বিশ্বাসী লোকটি অবিশ্বাসী লোককে একটি মাটির চাক দিয়ে আঘাত করল.অবিশ্বাসী লোকটি চিৎকার করলো এবং আইনের আশ্রয় নিল.
আইনজীবী আঘাতের কারণ জানতে চাইলে বিশ্বাসী লোকটি বলল, আমি তাহার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি.এবং আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করেছি.

আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ
- সে বলল, আমি যে তাকে আঘাত করেছি সে ব্যথা পেয়েছে.কিন্তু সে তো আমাকে ব্যথা দেখাইতে পারে নাই.ব্যথা কি দেখা যায়?
- তার মতে যেটা দেখা যায় না সেটার কোন অস্তিত্ব নাই. আর এটাই তার প্রথম প্রশ্নের উত্তর.
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর
যদি মাটির তৈরি মানুষকে যদি মাটি দিয়ে আঘাত করার ফলে ব্যথা পায়, তাহলে আগুনের তৈরি শয়তানকে আগুন দিয়ে এইভাবে শাস্তি দেওয়া যায়.
এক নাস্তিকের ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ
ইরাকে এক নাস্তিক ছিল,তার নাম ছিল মুজছি নাস্তিক মূলহিত. সে সব সময় বাহিরে বলে বেড়াতো স্রষ্টা বলে কিছুই নেই. আমি যা দেখিনা তা বিশ্বাস করি না.
আবু হানিফা আসতে বলেছেন
- তখন মানুষজন বলল, তাদের মসজিদের ইমাম নোমান ইবনে সাঈদ আবু হানিফা তোমাকে স্রষ্টার অস্তিত্ব দেখাতে পারবেন.ইমাম আবু হানিফা শুক্রবার জুমার নামাজের পর ওই নাস্তিককে আসার জন্য বলেছেন.
- আর তখন সেখানে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয়েছে. এবং ওই নাস্তিকও এসেছিল. কিন্তু আবু হানিফা আসতে দেরি হল.
- তখন নাস্তিক মূলহিত বলল, তোমাদের ইমামের সময়ের জ্ঞান নাই, সে কি করে আল্লাহর অস্তিত্ব দেখাবে. এবং মূলহিত আবু হানিফাকে অকথ্য ভাষায় কথাবার্তা ও গালি দিতে লাগলো.
আসতে দেরি হওয়ার কারণ
ইমাম আবু হানিফা বললেন, আমার আসতে দেরি হওয়ার কারণ হলো, আমি যে পথে আসি ওই পথে একটা নদী থাকে.এবং নদী পার হওয়ার জন্য কোন নৌকা ছিল না.

-Boat building
নৌকা তৈরি হয়ে গেল
- তখন আমি দেখলাম নদীর পাড়ে একটা গাছ ছিল,আর ওই গাছটি নিজে নিজে কেটে তক্তা হয়ে গেল, এবং তক্তা গুলো জোড়া লাগিয়ে নৌকা তৈরি হয়ে গেল.
- আর আমি বিসমিল্লা বলে ওই নৌকায় চড়ে নদী পার হলাম.আর এটা প্রসেসিং হতে কিছু সময় লেগেছিল. এজন্য আসতে দেরী হলো.
নাস্তিক বলল
নাস্তিক মূলহিত ইমাম আবু হানিফার দেরি হওয়ার কারণ শুনে বলল, তোমার মাথার মধ্যে তার ছিরা আছে. তুমি আস্তা পাগল.
তুমি বড্ড পাগল
কিভাবে একটা গাছ নিজে নিজে কেটে তক্তা হয়ে যায়, এবং তক্তা থেকে নিজে নিজে কিভাবে নৌকা হয়ে যায়? আবার ওই নৌকা মাঝি ছাড়া কিভাবে চলে? তুমি বড্ড পাগল.
ইমাম আবু হানিফা বললেন

- তখন ইমাম আবু হানিফা বললেন,যদি গাছ থেকে নিজে নিজে তক্তা না হয়, তক্তা থেকে নৌকা না হয়, নৌকা মাঝি ছাড়া না চলে,
- তাহলে কিভাবে আসমান জমিন, ভূমন্ডল নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে? কিভাবে রাতের পর দিন হয়, দিনের পর রাত হয়? কিভাবে আকাশ থেকে বৃষ্টি নিজে নিজে হয়?
- কিভাবে সূর্যে আলো দেয়?সমুদ্র সাগর, মানুষ কিভাবে নিজে নিজে সৃষ্টি হয়ে গেল?
তখন নাস্তিক ভুল বুঝল এবং আল্লাহর অস্তিত্ব বিশ্বাস করল
- আর তখন নাস্তিক বলল, আসলেতো আমি এইভাবে চিন্তা করি নাই. কারণ এইসব তো নিজে নিজে সৃষ্টি হতে পারে না. এইসব সৃষ্টির এক মহা শক্তিশালী রয়েছে,
- যাকে আমরা আল্লাহ বলি. তখন নাস্তিক ভুল বুঝতে পারল এবং স্রষ্টায় বিশ্বাস করল এবং ঈমান গ্রহণ করল.
নিজে নিজে কিছু তৈরি হয় না
- তাছাড়া পৃথিবীতে এমন কোন বস্তু নেই যে,এটা নিজে নিজে তৈরি হয়ে গেছে.কেউ না কেউ তাকে তৈরি করেছে.আমরা মানুষ,স্রষ্টার তৈরি পৃথিবী থেকে কোন পদার্থ নিয়ে আমরা কিছু তৈরি করি.তাহা= ই আমরা দেখতে পাই.

- আমাদের শরীরের এই অঙ্গ আমরা তো নিজেরাই তৈরি করি নাই.
- তাছাড়া আমাদের শরীরের অঙ্গ গুলো কার্যক্রম প্রক্রিয়া আমাদের নিজের আদেশে হয়না.
- তাছাড়া অক্সিজেন গ্রহণ,কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ আমাদের আদেশে হয় না.
- আর তখন ইমাম আবু হানিফা বলল,তোমাকে বোঝানোর জন্যই এ কাহিনী করেছি.
- বিদ্রোহী :-আপনারা ভেবে দেখেন এই মানুষ সৃষ্টির স্রষ্টা এবং আসমান জমিন চন্দ্র সৃষ্টির স্রষ্টা একই,আমরা এই স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করি.
আল্লাহকে আমরা দেখতে পাই না কেন?
আমরা সৃষ্টিকর্তাকে দেখতে পাই না.কারণ স্রষ্টা আর সৃষ্টি এক নয়.আর মানুষ হচ্ছে স্রষ্টার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ.আর পৃথিবীর সব কিছু মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে.কেন আমরা স্রষ্টাকে দেখতে পাই না নিম্নে কয়েকটি কারণ উপস্থাপন করলাম.
আল্লাহর অস্তিত্ব দেখার জন্য মানুষের এমন মর্যাদা নেই
- মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন ওহির মাধ্যম ব্যতিরেকে, অন্তরাল অথবা জিব্রাইল প্রেরণ ব্যতীরেকে,যে আল্লাহ যা চান তা ব্যক্ত করে তার অনুমতিক্রমে;
- নিঃসন্দেহে তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়.(৪২নংসূরা আশুরা আয়াত ৫১)মানুষ ওই পর্যায়ে পৌঁছে নাই যে স্রষ্টাকে দেখবে.
- বস্তুত,অজ্ঞরা বলে, আল্লাহ আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? বা কোন নিদর্শন আমাদের নিকট আসে না কেন?
- এভাবে তাদের পূর্ববর্তীরা ও তাদের অনুরূপ কথা বলতো, তাদের অন্তর একই, আমি দৃঢ় প্রত্যয়নশীলদের জন্য নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি.২ নং সূরা বাকারা ১১৮

মানুষ সৃষ্টিগত ভাবেই দুর্বল
- স্রষ্টার তৈরি সূর্যের প্রখর আলোর দিকে আমরা বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারি না,তাহলে কিভাবে আমাদের এই চোখ দিয়ে স্রষ্টাকে দেখব ?এবং স্রষ্টার অস্তিত্ব খুঁজে পাব.
- পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে আমরা দেখতে পাই না, কিন্তু সেটা আছে.যেমন;- বাতাস, ব্যথা,আবেগ, বিবেক, জিন, শয়তান,শক্তি ইত্যাদি.
- তাছাড়া আমরা আমাদের কপাল দেখতে পাই না.পিট দেখতে পাই না অথচ আমাদের চোখের সাথে জড়িত
- বিজ্ঞানের মতে আমাদের চোখে যে শক্তি ৪ থেকে ৫ পার্সেন্ট দেখি, ৯৫ থেকে ৯৬% আমরা দেখি না.

আল্লাহর অস্তিত্ব বুঝার জন্য আকাশের দিকে লক্ষ্য কর
- তাছাড়া আকাশে রয়েছে অসংখ্য গ্রহ,নক্ষত্রমন্ডলী,অসংখ্য গ্যালাক্সি,অসংখ্য মিল্কওয়ে এবং দিন দিন তার সম্প্রসারিত হচ্ছে, বিজ্ঞান ও তা ধারণাও করতে পারে না.
- আমরা যেটা দেখতে পাই তা হলো প্রথম মহাবিশ্ব,তারপর প্রথম আকাশ
- তারপর দ্বিতীয় মহাবিশ্ব, তারপর দ্বিতীয় আকাশ
- তারপর তৃতীয় মহাবিশ্ব, তারপর তৃতীয় আকাশ.আল্লাহ তায়ালা এ ভাবে সাত আকাশ সৃষ্টি করিয়াছেন.
- আর বিজ্ঞানের মতে এই ধরনের সৃষ্টির জন্য মহাশক্তিশালী রয়েছে,এতে বৈজ্ঞানিকভাবে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়.
পৃথিবী একটা ধুলি বা বালির সমান
মহাবিশ্বের গ্রহ,নক্ষত্র এবং পৃথিবীর সকল কিছুর দিকে তাকালে আমরা দেখি,যে পৃথিবী একটা ধুলি বা বালির সমান.আমরা মানুষ খুবই দুর্বল,তাহলে আমরা কি ভাবেআল্লাহ অস্তিত্ব দেখব?
আল্লাহর অস্তিত্ব অনুভব করার উদাহরণ;-
- যে কেউ একটা কেক তৈরি করবে এবং কেক তৈরিতে দুইটা ডিম,2 কাপ ময়দা, এক কাপ চিনি, এক কাপ তেল,এক কাপ দুধ, একটু লবণ, এক চামচ ভ্যাকিং পাউডার, একটু ভ্যানিলা ইত্যাদি দিয়ে কেক তৈরি করল,

- এখন মনে করি, আমি ওই ময়দার একটি মাত্র অনু, এখন আমি এই অনুটি কিভাবে ওই কেক তৈরিকারিকে খুঁজবে ?
- নিশ্চয়ই মানুষ দুর্বল হিসেবে সৃষ্টি.(70 নং সূরা আল মারিজ আয়াত 19)
- মানুষ সৃষ্টিগত ভাবেই দুর্বল. ৪ নং সূরা নিসা আয়াত নং ২৮
তাহলে আমাদের আল্লাহ কোথায়?
- আমাদের সৃষ্টিকর্তা কোথায় এর উত্তরটি আল্লাহ কোরআনে বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ করেছেন.
- নিম্নে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হলো.
আল্লাহ আমাদের ঘাড়ের রগ হতেও অধিকতর নিকটতর
- আর আমি মানুষ সৃষ্টি করলাম ,আমি জানি ,তার প্রবৃত্তি তাকে কুমন্ত্রণা করে, আমি তার ঘাড়ের রগ হতেও অধিকতর নিকটতর.(50 নাম সূরা ক্বা -ফ ১৬)

- প্রাণ কণ্ঠগত হলে রোদ করো না কেন? আর তোমরা তো তখন তাকিয়ে থাকো,আমি তোমাদের চেয়ে তার অধিকতর নিকটতর, কিন্তু তোমরা তা দেখো না.৫৬ নং সূরা ওয়াকিয়া ৮৩থেকে ৮৫
আল্লাহ আমাদের নিকটেই রয়েছে
- যখন বান্দারা আমার ব্যাপারে প্রশ্ন করে,আমি তো নিকটেই রয়েছি, আমি ডাক শুনি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনায়, তাদেরও উচিত আমার ডাকে সাড়া দেওয়া ও আমাকে বিশ্বাস করা, যেন তারা সুপথ পায়.২নং সূরা বাকারার 185
আল্লাহ মানুষকে বেষ্টন করে আছেন
- স্মরণ করুন, আমি যখন আপনাকে বললাম, রব মানুষকে বেষ্টন করে আছেন, যে দৃশ্য আমি আপনাকে দেখিয়েছি তা
- এবং কুরআনে অভিশপ্ত গাছটি শুধু মানুষের পরীক্ষার জন্য.আমি তাদেরকে ভয় দেখায়, কিন্তু এতে তাদের অবাধ্যতাই বৃদ্ধি পায়.১৭ নং সূরা বনি ইসরাইল 60
- অভিশপ্ত গাছটির বিষয়ে জাহান্নাম বিভাগে পাওয়া যায়.
পরিশেষে বলতে পারি যে, উপরোক্ত বিষয়সময়ের প্রেক্ষিতে দেখা যায় যে, আমাদের নিজেদের মধ্যে ও বিশ্বজগতের প্রান্ত সমূহে আল্লাহর পরিচয় ও নিদর্শনাবলী বিস্তৃত এবং আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণিত.

